বিভিন্ন ধরনের আবাসন
জাপানে মোটামুটি চার ধরনের আবাসন রয়েছে। বাড়ি এবং বহুতল ভবনের অ্যাপার্টমেন্ট বা কনডোমিনিয়ামসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন হচ্ছে এগুলোর মধ্যে একটি। নানারকম প্রক্রিয়া ও চুক্তি একটি বাসস্থান নির্মাণ বা কেনার সাথে জড়িত।
আরেকটি ধরন হচ্ছে সরকারি আবাসন বা পাবলিক হাউজিং, জেলা কিংবা পৌর প্রশাসন যেগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে ভাড়া দেয়। এরকম আবাসনের প্রতিটিতে জনগণের বসতির অনুমতি দেয়ার আগে আয়ের পরিমাণের মতো প্রয়োজনীয় কিছু শর্তাবলি লোকজন যে পূরণ করছেন, তা নিশ্চিত করে নেয়া হয়। সেরকম প্রয়োজনীয় কিছু শর্তাবলি পূরণ করতে পারলে বিদেশি নাগরিকরা সরকারি আবাসনে থাকতে পারেন।
তৃতীয় ধরন হচ্ছে ইউআর রেন্টাল হাউজিং, আরবান রেনেসাঁ এজেন্সি যেগুলোর ব্যবস্থাপনা করে থাকে। এজেন্সির নির্ধারণ করে নেয়া ন্যূনতম মাসিক আয়ের প্রয়োজনীয়তা এই ক্ষেত্রে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আবাসন মর্যাদা থাকলে বিদেশি নাগরিকরা এরকম একটি ইউনিট ভাড়া নিতে পারেন।
বেসরকারি মালিকানাধীন আবাসন হচ্ছে চতুর্থ ধরন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে যে কেউ এরকম একটি ইউনিট ভাড়া নিতে পারেন। ভাড়া নিতে যাওয়া প্রতিটি ইউনিটের জন্য চুক্তির ধরন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, ফলে চুক্তি স্বাক্ষর করার আগে সাবধানে পরীক্ষা করে নিতে ভুলবেন না।
বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্য যা আবশ্যক
জাপানে আবাসনের ধরণের উপর নির্ভর করে এই আবশ্যকতা গুলো আলদা আলাদা হয়।
নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য সরকারি আবাসনের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত মেনে চলতে হয়, সেগুলির মধ্যে রয়েছে আবাসন পরিচালনাকারী পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত আয়ের ন্যুনতম পরিমাণ। বিদেশি নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত শর্ত মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। যেমন: আপনার জাপানে বসবাসের মর্যাদা, যেখানে অভিবাসী হিসেবে থাকার অনুমতি এক বছরের ওপর হওয়া চাই, অথবা আপনার বসবাসের অতীত রেকর্ড প্রদান করতে হতে পারে।
ইউআর রেন্টাল হাউজিংয়ের জন্য, আরবান রেনেসাঁ এজেন্সি শর্ত হিসেবে মাসিক আয়ের একটি ন্যূনতম পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা কূটনীতিক, কর্মকর্তা, বিশেষ স্থায়ী বাসিন্দা বা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে মধ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক মর্যাদা রয়েছে, তারা এধরনের আবাসন পাওয়ার যোগ্য।
ব্যক্তিগত ভাড়া বাড়ির ক্ষেত্রে রিয়াল এস্টেট কোম্পানিগুলি প্রায়ই জাপানিতে “ওহিয়া” নামে পরিচিত বাড়িওয়ালার সাথে ভাড়া চুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতা করে। আবেদনকারীর মাসিক ভাড়া পরিশোধ করার ক্ষমতা আছে কি না, প্রথমে সেটা যাচাই করা হয়। বাড়িওয়ালার সাথে মতৈক্য হওয়ার পর, তবেই তিনি একটি ভাড়া নেওয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারবেন।
ভাড়া বাড়ি কীভাবে খুঁজে পাবেন
রিয়েল এস্টেটের তথ্য সম্বলিত ওয়েবসাইট গুলোতে আপনি ভাড়া বাড়ির সন্ধান করতে পারেন। তাদের মধ্যে দ্যা সেফটিনেট জুতাকু জোহো তেইকিয়ো সিস্টেম নিম্ন আয়ের পরিবার এবং বয়স্ক ব্যক্তিসহ বিশেষ যত্নের প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের জন্য ভাড়া বাড়ি তালিকাভুক্ত করে থাকে। বিদেশিরা ভাড়া নিতে পারে, এমন বাড়ির অনুসন্ধানও আপনি এখানে করতে পারেন। এই ওয়েবসাইটটি শুধুমাত্র জাপানি ভাষায় তৈরি, তবে আপনার ব্রাউজারের স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ ব্যবস্থা আপনাকে এর বিষয়বস্তু মোটামুটিভাবে বুঝতে সাহায্য করবে৷
কিছু বড় রিয়েল এস্টেট কোম্পানির ওয়েবসাইট ইংরেজিতে তথ্য প্রদান করে থাকে।
আপনি যেখানে বাস করতে চান, সেই শহরের স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্টের অফিসেও বাড়ি খুঁজতে পারবেন। এধরনের অফিসগুলোর দেয়ালে বিভিন্ন ভাড়া বাড়ির তথ্য লাগানো থাকে, যা আপনি বাইরে থেকে পড়তে পারবেন এবং সেই এলাকার গড় ভাড়া সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবেন।
আপনি যদি সেখানকার কর্মীদেরকে ভাড়া এবং কক্ষের সংখ্যাসহ আপনার প্রয়োজনীয়তাগুলো সম্পর্কে বলেন, তাহলে তারা আপনাকে সেগুলো পূরণ করার মতো বাড়ির তথ্য দেবে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টের ব্যাখ্যা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সহজতর করার জন্য জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারে এমন কেউ আপনার সাথে থাকলে ভালো হবে।
এছাড়া, আপনি আপনার বন্ধু এবং অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিদের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমেও একটি বাড়ি খুঁজে পেতে পারেন।
আপনার বাড়িতে আপনি যা চান তা কীভাবে জানাবেন
আপনি যখন রিয়েল এস্টেট এজেন্টের কাছে যাবেন, আপনার কাঙ্ক্ষিত বাসস্থানের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়, যেমন: ভাড়া, আকার, নিকটতম স্টেশন থেকে দূরত্ব এবং গোসলের এলাকা থেকে টয়লেট আলাদা থাকা, এসব তাদেরকে জানাতে হবে। “অ্যাপার্টমেন্ট সার্চ গাইডবুক” নামক একটি ওয়েবসাইটে ১৪টি ভাষায় পছন্দের শর্তগুলোর একটি চেকলিস্ট পাওয়া যায়৷ এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করার সময় এটি আপনাকে সাহায্য করবে।
এজেন্ট আপনাকে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন, যেমন: আপনার নাম, পেশা, আয়, কতজন লোক একসাথে থাকবেন এবং আপনি কেন থাকার জায়গা খুঁজছেন, এইসব। আপনি যদি একজন বিদেশি হন, তাহলে আপনাকে আপনার জাপানি ভাষার যোগ্যতা এবং বসবাসের মর্যাদা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হতে পারে। আপনি যখন এজেন্টের কাছে যাবেন, তখন আপনার পাসপোর্ট বা রেসিডেন্সি কার্ড সঙ্গে নিয়ে গেলে ভালো হয়, কারণ আপনাকে একই দিনে নির্বাচিত বাসস্থানের জন্য আবেদন করতে হতে পারে।
বাড়ির ফ্লোর প্ল্যান ও বর্ণনা কীভাবে পড়তে হয়
ফ্লোর প্ল্যান হলো বিভিন্ন ঘর ও যন্ত্রপাতির বিন্যাস দেখানো রেখাচিত্র। কক্ষ কোন কাজে ব্যবহার করা হয় তা দেখানোর জন্য ফ্লোর প্ল্যানে বর্ণমালা যুক্ত করা হয়। “L” মানে ড্রইং রুম বা বসার ঘর, “D” হচ্ছে ডাইনিং রুম এবং “K” রান্নাঘর। “LDK”-র অর্থ হচ্ছে এমন একটি ঘর যা, ড্রইং রুম, খাবার ঘর এবং রান্নাঘর হিসাবে কাজ করে। “DK” হলো এরকম একটি ঘর যা ডাইনিং রুম এবং রান্নাঘর হিসাবে কাজ করে। বর্ণমালার আগে বসানো সংখ্যা, যেমন: “1DK” এবং “2LDK” আলাদা ঘরের সংখ্যা দেখায়। “2LDK” এর অর্থ হলো একটি “LDK” ছাড়াও ভিন্ন দুটি কক্ষ যেখানে রয়েছে।
আপনি যদি আপনার পছন্দের ইউনিট খুঁজে পান, তাহলে বাড়ি ভাড়া দেয়ার তদারকি করা রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা বাড়ি দেখিয়ে দেয়ার জন্য আপনার সাথে থাকবে এবং এজন্য কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। সম্ভাব্য নতুন বাড়িতে আপনার আসবাবপত্রের জায়গা হবে কি না, তা যাচাই করে দেখার জন্য এই সেবা আপনি ব্যবহার করতে পারেন। আশপাশের এলাকার পরিবেশ, রেলস্টেশন থেকে দূরত্ব এবং কাছাকাছি দোকান আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ আপনাকে দেয়া হচ্ছে।
বাড়ি ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়া
আপনি যদি কোনো বাড়ি দেখার পরে সেটি ভাড়া নিতে চান, তাহলে আপনাকে লিজিং চুক্তির জন্য আবেদন করতে হবে। এই সময় আপনাকে বাড়িওয়ালার কাছে জমা দিতে হবে আপনার পাসপোর্ট ও আবাসিক কার্ডের একটি করে কপি এবং উপার্জন সংক্রান্ত প্রমাণপত্রের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র। সাধারণত আবেদন করার পর বাড়িত উঠতে সপ্তাহদুয়েক সময় লাগে।
বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্য আপনি বাড়িওয়ালার সাথে একটি ভাড়াচুক্তি স্বাক্ষর করবেন। এই চুক্তির মধ্যে ভাড়ার পরিমাণ, চুক্তি স্বাক্ষর করার সময় আপনাকে যে পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, সেখানে বসবাসের সময় আপনাকে যে নিয়মগুলো অনুসরণ করতে হবে এবং ছাড়ার সময় বাড়িটিকে আসল অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা, সে সংক্রান্ত বিষয়ের উল্লেখ থাকে। স্বাক্ষর করার আগে চুক্তিটির বিষয়ে ভালো করে বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যা আপনাকে পরবর্তীতে সমস্যা এড়াতে সাহায্য করবে।
জাপানে বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ সাধারণত দুই বছরের হয়। এই মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব কি না, জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আপনি যদি ভাড়া পরিশোধ করতে না পারেন, সেকথা ভেবে আপনাকে যৌথ গ্যারান্টারের ব্যবস্থা করতে অথবা ভাড়া গ্যারান্টি কোম্পানির সাহায্য নিতে বলা হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাড়ির দালাল এজেন্টের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনীয় খরচ
জাপানে বসবাসের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময়, মাসিক ভাড়া এবং ব্যবস্থাপনাজনিত অর্থ ছাড়াও আপনাকে আরও কিছু অর্থ দিতে হতে পারে, যা শুধুমাত্র জাপানের জন্যই প্রযোজ্য।
প্রথমে রয়েছে “শিকিকিন” নামক একটি নিরাপত্তা জামানত, যা আপনি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাড়িওয়ালার কাছে জমা রাখবেন। এটি সাধারণত এক থেকে দুই মাসের ভাড়ার সমমূল্যের হয়ে থাকে। আপনি বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সময় পরিষ্কার ও মেরামতের খরচ কেটে নেওয়ার পর এর থেকে কিছু টাকা আপনাকে ফেরত দেওয়া হবে।
তারপর রয়েছে “রেইকিন”, যা বাড়ি ভাড়া দেওয়ার জন্য বাড়িওয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা হিসেবে দেওয়া হয়। এটি সাধারণত এক মাসের ভাড়ার সমমূল্যের এবং এটি আপনি ফেরত পাবেন না।
পাশাপাশি, আপনার রিয়েল এস্টেট এজেন্টকে প্রায় এক মাসের ভাড়ার সমমূল্যের অর্থও দিতে হবে।
এগুলো ছাড়াও, আপনাকে অগ্নি বীমা ক্রয় করতে হবে। আপনার যদি একটি গ্যারান্টার কোম্পানির সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে আপনাকে তার খরচও বহন করতে হবে।
একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার মোট প্রাথমিক খরচ মূলত এলাকার উপর নির্ভর করবে, তবে ভাড়া বাদে সাধারণত এর পরিমাণ প্রায় চার থেকে সাত মাসের ভাড়ার সমান হয়ে থাকে৷
নতুন বাড়িতে ওঠার নিয়মাবলি
বাড়ি ভাড়া নেয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করলে আপনি আপনার নতুন বাড়ির চাবির একটি সেট পাবেন। কিছু ক্ষেত্রে, আপনি চাইলে নিজে খরচ করে তালা পরিবর্তন করতে পারবেন।
চাবি পাওয়ার পরে, সম্ভব হলে আপনার রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সাথে বাড়ির ভিতরের অংশ ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখে নিতে পারলে ভালো হয়। যেসব জায়গায় কোনো দাগ আছে বা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সেগুলোর ছবি তুলে রাখুন বা নথিবদ্ধ করে রাখুন যাতে করে ভবিষ্যতে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারেন।
অবিলম্বে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানি সরবরাহ চালু করতে হলে নতুন বাড়িতে বসবাস শুরু করার আগেই আপনাকে পরিষেবা কোম্পানিগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনলাইনে বা ফোনে আবেদন গ্রহণ করা হয়ে থাকে। প্রধান গ্যাস ভালভ চালু করার সময় আপনাকে উপস্থিত থাকতে হবে। পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে, আপনার নতুন বাড়ির লেটার বক্সে এসংশ্লিষ্ট কোম্পানির আবেদনপত্র পাবেন৷ এটি ব্যবহার করে আপনি পানির আবেদন করতে পারবেন।
দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণীয় নিয়মাবলি
জাপানে প্রতিটি পৌরসভার আবর্জনা কীভাবে ফেলতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত নিয়ম রয়েছে। সেইসব নিয়ম মানা না হলে আবর্জনা হয়তো নিয়ে যাওয়া হবে না এবং প্রতিবেশীদের সাথে সমস্যা শুরু হতে পারে। কীভাবে আবর্জনা আলাদা করতে হবে, কোথায় তা ফেলতে হবে এবং প্রতিটি ধরনের আবর্জনা ফেলার দিন ও সময় নিশ্চিত করে নিতে ভুলে যাবেন না। পৌরসভার উপর নির্ভর করে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় ছাপা প্রচারপত্রে কিংবা ইন্টারনেট অ্যাপ্লিকেশনে তথ্য পাওয়া যায়, তাই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে নিন।
অ্যাপার্টমেন্ট এবং কন্ডোমিনিয়ামের প্রতিটি বসবাসকারীকে অবশ্যই শব্দ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। উচ্চস্বরে গান বা যন্ত্র বাজানো বা শোরগোল তোলা সমাবেশের আয়োজন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই ধরনের ভবনগুলোতে উচ্চ কণ্ঠের শোরগোল বাড়ির পাশের ইউনিটগুলোতে বা উপর ও নিচের তলায় চলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তাই বিশেষ করে ভোরে এবং রাতে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ভাড়া বাড়ির ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা নিয়মাবলি
ভাড়াটিয়াকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যাতে ভাড়া বাড়ির কোনো অংশ, যেমন: দেয়াল এবং মেঝে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ক্ষতি যদি হয়, বাড়ি ছাড়ার সময় ভাড়াটিয়াকে মেরামতের খরচ বহন করতে বলা হবে।
বাহিরে পরিধানের জুতা পায়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকবেন না। প্রবেশদ্বারের কাছে জুতা খুলে রাখতে হবে।
নিয়মিত ঘরের মধ্যে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। আর্দ্রতার কারণে ছত্রাকের বিস্তার শুরু হলে ওয়ালপেপার বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ভাড়া বাড়িতে দেয়ালে ছবি আঁকা বা পেরেক লাগানো নিষিদ্ধ।
খাবারের বর্জ্য বা রান্নার তেল রান্নাঘরের বেসিনের ড্রেনে ঢাললে, তাতে নিষ্কাশন পাইপ আটকে যেতে পারে। সংবাদপত্র বা অন্যান্য শোষক দিয়ে ব্যবহৃত তেল শোষণ করে নিন এবং সেটিকে দাহ্য বর্জ্য হিসেবে ফেলে দিন।
অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ফ্ল্যাট ভাড়া নিলে পথ, সিঁড়ি কিংবা জনসমাগমের অন্যান্য স্থানে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখবেন না। জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এই জিনিসগুলো লোকজনের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার সময় বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া
ভাড়ার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময়, ভাড়াটিয়াকে অবশ্যই আগে থেকে বাড়িওয়ালা বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপককে অবহিত করতে হবে, যেমনটি বাড়ি ভাড়ার নেয়ার চুক্তিতে উল্লেখ করা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে, এই অবহিত করার সময়সীমা বাড়ি ছাড়ার তারিখের এক মাস আগে হয়। আপনার প্রস্থানের এক সপ্তাহ আগে আপনার বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানি চুক্তিগুলোও সমাপ্তির ব্যবস্থা করতে ভুলবেন না। সমাপ্তির তারিখের উপর নির্ভর করে আপনার বিল করা হবে। আপনি যদি জাপানের মধ্যেই অন্যত্র যান, তাহলে আপনার চিঠিপত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনামূল্যে আপনার নতুন বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আপনার বাড়ি খালি করার সময়, বাড়িওয়ালা বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপক সাধারণত ভাড়াটিয়াকে সাথে নিয়ে ভাড়া নেয়া বাড়িটি পরিদর্শন করবেন। ভাড়াটিয়াকে ক্ষতি এবং দাগের জন্য মেরামতের খরচ বহন করতে হতে পারে যেগুলো স্বাভাবিক ক্ষতি বা দাগের থেকে অনেক বড়। বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়, অহেতুক জরিমানা ধার্য্য করা এড়াতে, সমস্যা হতে পারে এমন যেকোনো কিছুর ছবি তুলে রাখার পরামর্শ তাই দেওয়া হয়।
একটি সাধারণ নিয়ম হিসেবে, বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় আপনি যে আমানত প্রদান করেছিলেন তা আপনি চলে যাওয়ার পরে ফেরত দেওয়া হবে, তবে যে কোনোও মেরামতের জন্য খরচ এই আমানত থেকে কেটে নেওয়া হবে।


