ইসলামে ক্ষমাকে মহান গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কুরআন ও হাদিসে বহুবার ক্ষমার গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। আল্লাহ নিজেই “গফুরুর রহীম” (অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু), তাই তিনি বান্দাদেরও ক্ষমাশীল হতে উৎসাহিত করেছেন।

কুরআনের কিছু আয়াত:

1. “আর যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষের অপরাধ ক্ষমা করে, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” — (সুরা আলে ইমরান, ৩:১৩৪)

2. “তুমি ক্ষমাকে গ্রহণ কর, সৎকাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।” — (সুরা আল-আ’রাফ, ৭:১৯৯)

3. “আর যদি তোমরা ক্ষমা কর, অধিকার ছাড় দাও এবং ক্ষমাশীল হও, তবে আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” — (সুরা আত-তাগাবুন, ৬৪:১৪)

ক্ষমা কিন্তু দুর্বলতা নয়। ইসলামে ক্ষমাকে দুর্বলতা নয়, বরং এক শক্তিশালী গুণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। নবী (সা.) ও সাহাবিরা ক্ষমা করতেন, তবে প্রয়োজনে সতর্কতাও অবলম্বন করতেন। তাই ক্ষমা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া নয়, বরং নিজের আত্মাকে হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত করা।

আপনি যদি কাউকে ক্ষমা করতে চান, সেটি আপনার জন্য কল্যাণকর হবে, তবে এটি মানেই নয় যে, আপনাকে তার সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক রাখতে হবে। ক্ষমা করুন, কিন্তু প্রয়োজন হলে সম্পর্কের সীমারেখা ঠিক করে নিন।

ক্ষমা করা মানেই গলায় গলায় ভাব দেখানো নয়। প্রকৃত ক্ষমা মানে হলো মন থেকে রাগ-ক্ষোভ-মনের বোঝা দূর করা, তবে সম্পর্কের ধরন কেমন হবে, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।

কেউ যদি আপনাকে কষ্ট দিয়ে থাকে, আপনি তাকে ক্ষমা করতেই পারেন, কিন্তু তার সঙ্গে আগের মতো ঘনিষ্ঠ হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ক্ষমা মানে ভুলে যাওয়া নয়, বরং নিজেকে কষ্ট থেকে মুক্ত করা। সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সেই ব্যক্তি সত্যিই বদলেছে কি না, তার প্রতি আপনার আস্থা আছে কি না, এবং সেই সম্পর্ক আপনার মানসিক শান্তির জন্য ভালো কি না।

অতএব, ক্ষমা করুন নিজের শান্তির জন্য, কিন্তু সম্পর্কের সীমা নির্ধারণ করুন নিজের স্বস্তি অনুযায়ী।

February 2025
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  

Quote of the Polymath

“যদি কেউ তোমাকে ঢিল মারে তবে তুমি তাকে ঢিল মেরে সময় ও শক্তি নষ্ট করো না, নিজেকে এতো উপরে উঠাও যেনো তার ঢিল তার দিকেই ফিরে আসে।”

~ Dr. Khairuzzaman Mamun

© Iwate Bangladesh Exchange Association

Welcome. You are visiting this site for the first time.