ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের মাধ্যমে জাপানে এসে স্থায়ী ভাবে বসবাসের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনো বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করার পর জাপানে আসা সম্ভব। যাদের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে, এবং যাদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন পাবার সম্ভাবনা নেই তারা খুব সহজেই জাপান এসে নিশ্চিন্ত জীবন নিশ্চিত করতে পারবে।
আবেদনের যোগ্যতাঃ
- উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উক্তীর্ণ (কমপক্ষে ১২ বছর বা ততোধিক শিক্ষাজীবন)।
- সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার পর ২ বছর অতিবাহিত হয় নাই এমন ব্যক্তি। ২ বছর অতিবাহিত হলে যথাযথ কারণ বা অভিজ্ঞতার সনদ জমাদান সাপেক্ষে আবেদন করা যাবে।
- জাপানীজ ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা N5 বা সমমান পরীক্ষায় উক্তীর্ণ।(N5 সমমান বা উচ্চতর ভাষা দক্ষতা)
- শিক্ষার্থী হিসেবে আকাঙ্খিত আচরণ প্রদর্শনকারী ও শিক্ষা গ্রহণের একান্ত ইচ্ছা পোষণকারী ব্যক্তি।
আবেদন করার আগেই বাংলাদেশ থেকে N5 লেভেল শেষ করতে হবে। এই জন্য জাপানিজ ভাষা শিক্ষা নিতে হবে দেশের যেকোনো ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র থেকে। জাপানিজ ভাষা শিক্ষা এবং ভিসা প্রসেসিং করে বাংলাদেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। তাদের মাঝে জুয়াব (জাপানিজ এম্বাসি রিকোমেন্ডেট), ডিফোডিল, এক্সিওম এডুকেশন, ইচিবান ভালো। ভাষা শিক্ষার জন্য প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হবে। যে কোন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র থেকে ভাষা শিক্ষা নিয়ে N5 পাশ করার পর বাংলাদেশ থেকে জাপানে COE (প্রি-ভিসার) জন্য আবেদন করতে হবে ভিসা প্রসেসিং এজেন্সির সাহায্যে নিয়ে। আবেদন করার পর COE এর জন্য সাধারণত ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হয় রেজাল্টের জন্য।
COE এর জন্য এপ্লাই করতে ভাষা শিক্ষা সার্টিফিকেট, সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট, স্পন্সরের ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট এবং স্পন্সরের ট্যাক্স পেমেন্ট সার্টিফিকেট লাগবে। বাবা, মা, বড় ভাই , বোন সহ যে কোন ফাস্ট ব্লাডের আত্মীয় স্বজন স্পন্সর হতে পারবে। স্পন্সরের ব্যাংক সলভেন্সির জন্য ৬ মাসের ১০-১২ লাখ টাকা ডিপোজিট রেখে স্টেটমেন্ট নিতে হবে। এই সলভেন্সি সার্টিফিকেট পরে আবার ভিসা এপ্লিকেশন এর জন্য ও দরকার হবে।
COE রেজাল্ট প্রকাশ হবার পরে জাপানিজ স্কুলের এডমিশন ফি, টিউশন ফি এবং ডর্মিটরি ফি বাবদ প্রায় বাংলাদেশি টাকায় ৭-৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। জাপানিজ স্কুলের সকল ফি পরিশোধ করতে বাংলাদেশ থেকে জাপানে স্কুলের একাউন্টে টাকা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের যে কোনো ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করতে হবে। এই টাকা পাঠানোর জন্য ব্যাংক ৩০ হাজার টাকার মতো চার্জ নিয়ে থাকে। জাপানে আত্মীয় স্বজন কেউ থাকলে সে স্কুলের ফি কোন এক্সট্রা চার্জ ছাড়াই পরিশোধ করে দিতে পারবে। যাইহোক স্কুলের ফি পরিশোধ করার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এডমিশন কনফারমেশন সার্টিফিকেট ইস্যু করবে যা বাংলাদেশের এম্বাসিতে ভিসা এপ্লিকেশন এর জন্য লাগবে।
COE এবং স্কুলের এডমিশন সার্টিফিকেট হাতে পাবার পরে বাংলাদেশে এম্বাসিতে ভিসা ইন্টারভিউ এর জন্য এপ্লাই করতে হবে। ভিসা এপ্লিকেশন এর জন্য COE, স্কুলের এডমিশন সার্টিফিকেট, স্পন্সরের ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ট্যাক্স পেমেন্ট সার্টিফিকেট, ভাষা শিক্ষা সার্টিফিকেট সহ সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে। জাপান এম্বাসিতে ভিসা এপ্লিকেশনের জন্য কোন টাকা খরচ করতে হবে না।
ভিসা এপ্লিকেশনের এক সপ্তাহ পর ভিসা ইস্যু হবে যদি ইন্টারভিউ এবং ডকুমেন্টস সব নির্ভেজাল থাকে। ভিসা পাবার পর ভিসা প্রসেসিং এজেন্সিকে আরো ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। ঐ টাকা পরিশোধ করার পর এয়ার টিকিট কাটতে হবে। এয়ার টিকিট সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ হয়ে থাকে। জাপান আসার আগে আরো ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মার্কেটিং করে নিয়ে আসতে হবে। জাপান আসার পরে ২/৩ মাস জব না থাকলে প্রাথমিক ভাবে জীবন যাপনের আরো ২ লাখ টাকা সাথে নিয়ে আসলে প্রথম কয়েক মাস নতুন পরিবেশে এডজাস্ট করতে সহজ হবে।
জাপানে স্কুলে পড়াশুনার পাশাপাশি পার্টটাইম জব করে খুব সহজেই নিজের সকল খরচ বহন করা সম্ভব। পার্টটাইম জব করে প্রতি মাসে ১/১.২ লাখ ইয়েন আয় করা সম্ভব। ছাত্র থাকাকালীন সেভিংস অথবা দেশে টাকা পাঠানো ডিফিকাল্ট হলেও ৪ বছর পর ফুল টাইম জবে যাবার পর সেভিংস এবং দেশে টাকা পাঠানো যাবে। জাপানে আসার পরে ২ বছর ভাষা শিখতে হবে। তারপর ২ বছর যে কোন একটি ট্যাকনিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে ফুল টাইম জব নেওয়া যাবে।
নোটঃ জাপানের যেকোনো বিষয়ে জানতে কমেন্টে প্রশ্ন করুন।
– খাইরুজ্জামান মামুন


