শনিবার বলে দুপুর হয়ে গেলেও আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ মুনিয়া এসে আমাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিলো। সে বললো, পুস্পা ভাবি কল করেছিলেন। ভাবি বললেন, তারা ফাহিম ভাইদের সাথে ট্রেন ভ্রমণে যাবেন। আমাদেরও যেতে বললেন। আমি অবাক হয়ে বললাম, “ট্রেনে ভ্রমণ করার কি আছে?” মুনিয়া তৎক্ষণাৎ বললো, “চলোনা যাই।” আমি রাজি হয়ে বললাম, “আচ্ছা, আমাকে রেডি হওয়ার জন্য কিছু সময় দাও।”
আমরা দুপুর ২ টায় বাসা থেকে বের হলাম। তানজিদের গাড়িতে আমরা দুই পরিবার উঠে ফাহিমদের নিতে যাত্রা শুরু করলাম। পরে ফাহিমদের নিয়ে সরাসরি ট্রেন স্টেশনে চলে গেলাম। স্টেশনে পৌঁছে আমরা সবাই কনফিউজড হয়ে গেলাম কোথায় যাবো এই ডিসিশন নিতে। তানজিদ বললো, “চলেন কোমায় যাই।” ফাহিম বললো, “কোমা নামটা যেন কেমন।” তাই কোমায় যাওয়া হলো না। শেষে কোমার পরের সিটি কাওয়াগুচি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমরা টিকিট কেটে অপেক্ষা করতে লাগলাম। এই সময় আমাদের আড্ডা জমে একদম ক্ষীর হয়ে গেলো। কেউ ছবি তুলছিলো, কেউ গল্প করছিলো। দেখতে দেখতে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। আমরা সবাই ট্রেনে উঠে যে যার মতো বসে গেলাম। জাপানিজ ট্রেনগুলো খুবই আরামদায়ক এবং ইলেকট্রিসিটিতে চলে, তাই ইঞ্জিনের উচ্চ শব্দ নেই। ট্রেনের ভিতরে উপচেপড়া ভিড়ও নেই। আমি ট্রেনের একটি সিটে বসে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করতে লাগলাম। এখন শীতকাল তাই ট্রেনের বাইরে সবকিছু শুভ্র সাদা বরফে আচ্ছাদিত। চারদিকে সব সাদা, তারমাঝে ছোট ছোট শহরের মাঝ দিয়ে আমাদের ট্রেন ছুটে চলেছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। আমার ভালো লাগা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এইভাবে চলতে চলতে আমাদের ট্রেনটি কাওয়াগুচি স্টেশনে পৌঁছাল। আমরা সবাই ট্রেন থেকে নামলাম। ছোট একটি শহর হলেও, খুবই গোছানো! রাজধানী থেকে অনেক দূরে, এমনকি ইওয়াতের মূল শহর মোরিওকা থেকেও অনেক দূরের শহর হলেও সব নাগরিক সুবিধা রয়েছে। আমরা সবাই মিলে শহরটি এক্সপ্লোর করতে বের হলাম। জাপানিজরা খুবই শান্তিপ্রিয় জাতি। নিশ্চুপ নিঃসব্দ শহরটি আমাদের হৈ হুল্লোড়ে ভরে উঠলো। আমি আর তানজিদ শহরটি হেঁটে হেঁটে দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা পাহাড়ে বেষ্টিত শহরের আঁকাবাঁকা রাস্তায় হাঁটতে শুরু করলাম। মাঝেমধ্যেই একজন দুইজন মানুষের দেখা পেতাম। তারা আমাদের দেখে কৌতূহলী চোখে কনিচিওওয়া বলতেন। আমরাও তাদের রিপ্লাই দিয়ে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করলাম।
ছোট শহরে আনন্দ করতে করতেই ফেরার সময় হয়ে গেল। জাপানে আসার পর অসংখ্য বার গাড়িতে ভ্রমণ করেছি, কিন্তু ট্রেনে এমন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিল না। এটা একটি অসাধারণ অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সারা জীবন মনে থাকবে এমন একটি ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
লেখক: খাইরুজ্জামান মামুন।





