← সব লেখা

জাপানে আমার প্রথম ভ্রমণ!!

জাপানে আমার প্রথম ভ্রমণ!!

অক্টোবর ২০২৩ এ জাপানে আসি । জাপানে এসে ইতোমধ্যেই ৩ মাস পার হয়ে গিয়েছিল , তবে এই ৩ মাসে কোথায় ঘুরতেও যাওয়া হয়নি বা মরিওকায় অবস্থানরত কারো সাথে তেমন পরিচয়ও হয়ে ওঠেনি । কাজের সুবাদে তানজিদ ভাই , মিশাল ভাই এবং পাভেল ভাই সহ অল্প কয়েকজনের সাথে পরিচয় হয়েছিল । জানুয়ারী ২০২৪ এর শুরু থেকেই তানজিদ ভাই প্ল্যান করছিলো কোথাও ঘুরতে যাবে । তা কোথায় ঘুরতে যাবে ? ঘুরতে যাওয়ার স্থান হিসেবে ঠিক হলো ” আপ্পি হোটেল এন্ড স্কি রিসোর্ট ।” তো কথামতো ঘুরতে যাওয়ার দিন , তারিখ এবং সময় নির্ধারিত করা হলো ।যেহেতু তখন কারো সাথে তেমন একটা পরিচয় ছিলো না , তাই তানজিদ ভাইয়ের কাছ থেকেই সব তথ্য জেনে নিয়েছিলাম । জানুয়ারির ২৭ তারিখ , শনিবার ঘুরতে যাওয়ার দিন নির্ধারিত করা হলো এবং সবাইকে সকাল ৮ টার মধ্যে “গিয়োমু সুপার শপ” এর সামনে উপস্থিত থাকতে বলা হলো । বলে রাখা ভালো এটি একটি ছোট পরিসরের ট্রিপ ছিলো ,তাই এই ট্রিপে অংশগ্রহনকারী লোকের সংখ্যাও সীমিত ছিলো ।

অতপর ঘুরতে যাওয়ার নির্ধারিত দিন এসে পরলো । পূর্বে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮ টার মধ্যে “গিয়োমু সুপার শপের” সামনে এসে উপস্থিত হলাম । কিছুক্ষণের মধ্যে রাশেদ ও এসে হাজির হলো , কিন্তু বাকিদের এখনো কোনো খবর নেই । অভ্যাসগত ভাবেই আমাদের একটু দেরি হওয়াটাই স্বাভাবিক । এর মধ্যেই কোনো এক ফাকে মামুন ভাই এসে তার গাড়ি পার্ক করে , সিট বাকা করে শুয়ে ছিলেন । যেহেতু আমি তখনও মামুন ভাইকে চিনি না , তাই আমার তার উপস্থিতি বুঝার কোনো উপায় নেই , আর রাশেদ ও মামুন ভাইয়ের উপস্থিতি খেয়াল করেনি । তো বাকি সকলের জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমরা দুজন “গিয়োমু সুপার শপের” মধ্যে ঘুরাঘুরি করছিলাম , যেহেতু বাইরে প্রচুর শীত ছিলো তাই । তো অপেক্ষা করতে করতে আধা ঘণ্টা পার হয়ে গেলো এবং এর মধ্যে সবাই চলেও আসলো । তানজিদ ভাই “সেনবোকুচো” থেকে কয়েকজন কে রিসিভ করে নিয়ে আসলেন , আর মিশাল ভাই আসলেন ফাহিম ভাইকে রিসিভ করে নিয়ে । সেইদিনই প্রথম দেখা হয় ফাহিম ভাই , মামুন ভাই এবং লিনা আপুর সাথে । সবাই উপস্থিত হওয়ার পর “গিয়োমু” থেকে কিছু স্ন্যাকস কেনাকাটা করলেন লিনা আপু এবং আমরাও কিছু কিনে নিলাম । এরপর একটু ফটোসেশান করে আমরা আমাদের গন্তব্যে রওনা দিলাম । যেহেতু এটি আমার প্রথম ভ্রমণ ছিলো , তাই বেশ এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিলো ।

জাপানে আমার প্রথম ভ্রমণ!!

যাত্রাপথে প্রথম বিরতি নেয়া হলো কোনো একটা “ফ্যামিলি মার্টে” ।সেখান থেকে চিপস এবং পপকর্ন নিয়ে নিলাম ।আবার যাত্রা শুরু হলো । আমি যাচ্ছিলাম মামুন ভাইয়ের গাড়িতে করে । গান শুনতে শুনতে এবং মামুন ভাই ও রুস্তম ভাই মিলে রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা করতে করতে আমরা আমাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম । ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলা আমাদের গন্তব্য ” আপ্পি কোগেন হোটেল এন্ড স্কি রিসোর্টে “।

জাপানে আমার প্রথম ভ্রমণ!!

প্রথমবার এতো বেশি পরিমাণে “স্নো” দেখে আমি বেশ আনন্দিত । গাড়ি পার্ক করে হোটেলের রেস্টুরেন্ট এরিয়াতে ঢুকলাম। একটা টেবিল দখল করে সেখানে আমাদের মালামাল রেখে বের হয়ে পড়লাম বাইরে , বরফে মজা করার উদ্দেশ্যে । বাইরে বের হয়ে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিলো ছোট ছোট বাচ্চাদের খুব দক্ষতার সাথে “স্কি” করার দৃশ্য , এতো ছোট বাচ্চারা এতো চমৎকার ভাবে “স্কি” করতে পারে এটি আমি স্বপ্নতেও করতে পারিনি ।বাইরে বের হয়েই সবাই বরফ দেখে উৎফুল্ল হয়ে গেলো এবং কয়েকজন ফটোসেশানে ব্যাস্ত হয়ে গেলো । আমরাও কিছু ছবি , ভিডিও করে তারপর পাহাড়ের উপর দিকে উঠতে থাকলাম । ওইদিন মিশাল ভাই খুব বেশিক্ষণ বাইরে বরফের মধ্যে থাকেনি । মেধা আপুর খারাপ লাগছিলো বিধায় আপুর সাথে সাথে মিশাল ভাইও কিছুক্ষণের মধ্যে ভিতরে চলে আসে । তারা দুজন ভিতরে বসেই বাইরের সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন । অতপর হাটতে হাটতে বেশি উপরে চলে আসলাম । উপর দিকে এসে সবার সে কি এক্সাইটমেন্ট । এক্সাইটমেন্টে আমিও বরফে বসে পরে কিছু ছবি তুলেছিলাম ।

জাপানে আমার প্রথম ভ্রমণ!!

সাদা বরফ কে বিছানায় রুপান্তর করেও ছবি তুললাম।

জাপানে আমার প্রথম ভ্রমণ!!

এক্সাইটমেন্টের বসে আমরা শুরু করে দিলাম “জায়েদ খানের” ডিগবাজি । কিছুক্ষণ আমি এবং তানজিদ ভাই ডিগবাজি দিলাম এবং মামুন ভাই সেটি ভিডিওবন্দী করলেন । ডিগবাজি দেয়ার পরও এক্সাইটমেন্ট শেষ হয়নি । তাই সেই এক্সাইটমেন্ট থেকে রুস্তম ভাই এবং আসলাম ভাইকে কিছুক্ষণ বরফে চুবানো হলো । তারপর আবারও কিছুক্ষণ সবাই মিলে ফটোসেশান করলাম।

জাপানে আমার প্রথম ভ্রমণ!!

প্রিয় আসলাম ভাই এর সেলফিতে আমার কয়েকজন।

জাপানে আমার প্রথম ভ্রমণ!!

ফটোসেশান পর্ব শেষে ফাহিম ভাইও ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে ভেতরে চলে গেলেন , যেহেতু সাথে লিনা আপু ছিলেন ,তাই বেশিক্ষণ বাইরে থাকতে পারেনি । যারা বাকি রইলাম তারা আরো কিছুটা উপর দিকে গেলাম । এক্সাইটমেন্টের বশে মামুন ভাই বরফে দুইটা লাফ দিলেন উল্টা হয়ে , সেটিও ভিডিও করেছিলাম , কিন্তু পরে মামুন ভাইয়ের অনুরোধে ভিডিও ডিলেট করে দেই । বাইরে ঘুরাঘুরি শেষে আমরাও নিচের দিকে নেমে হোটেলের রেস্টুরেন্ট এরিয়ায় ফেরত চলে আসলাম। সবাই লাঞ্চ করছিলাম , আর এদিকে রাশেদ চলে গিয়েছিল স্কি করতে । আর মামুন ভাইও লাঞ্চ করার সময় কোথায় যেন উধাও হয়ে গেলো ।লাঞ্চ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে মরিওকায় ফেরত আসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম , শুধু মামুন ভাই থেকে গেলেন । তিনি রাশেদকে নিয়ে পরে ফেরত আসলেন । মরিওকায় ফেরত আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো ।

মরিওকায় এসে সবাই আবার তাকামাতসু পার্কে একত্রিত হলাম । রুস্তম ভাইয়েরা সেদিন খুবই মজার “খিচুরি এবং হাসের মাংস ” রান্না করে নিয়ে এসেছিলেন । ” হাসের মাংস আর খিচুরি ” টা এতো মজা ছিলো যা বলার বাইরে ।তাকামাতসু পার্কের টিনশেডের নিচে বসে আমরা খাবার গরম করে খাচ্ছিলাম । এমন সময় সেখানে রাতের অন্ধকারে আলো দেখতে পেয়ে “পুলিশ” হাজির হলো ।পুলিশ দেখে আমরা আমাদের চুলা লুকিয়ে ফেললাম ।পুলিশ এসে জিজ্ঞেস করলো আমরা এখানে কি করছি অন্ধকারে । তানজিদ ভাই কথা বললেন । পুলিশ বুঝতে পারলো আমরা ঘুরে এসে এখানে খাবার খেতে আর একটু আড্ডা দিতে একত্রিত হয়েছি ।তারপর তারা চলে গেলেন । আর আমরাও খাবার খেয়ে , কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে চলে আসলাম । যেহেতু প্রচন্ড শীত ছিলো , তাই বাইরে খুব বেশিক্ষণ থাকা কষ্টকর ব্যাপার ছিলো । এর মধ্য দিয়েই মরিওকায় আমার প্রথম ভ্রমণ শেষ হয়েছিল ।

আলি আজগর।
ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ।
মরিজবি ল‍্যাঙ্গুয়েজ স্কুল।
মরিওকা, ইওয়াতে, জাপান।

প্রথম লাইক দিন

নতুন লেখা

জাপান প্রবাসে

জাপানের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ

জাপানের যেখানেই থাকুন — নতুন এসেছেন বা অনেক দিন ধরে আছেন — এই সাইট আপনার জন্য। সম্পূর্ণ ফ্রি, বাংলা, English সহ নানা ভাষায়। আসুন, একে অপরের পাশে থাকি।

  • 🕌 নামাজের সময় ও আজান
  • মরিওকা মসজিদ
  • 🔍 হালাল খাবার যাচাই
  • 🗑️ ময়লা ফেলার নিয়ম
  • 🧭 নতুনদের গাইড
  • 📺 টিভি
  • ✍️ নিজের লেখা প্রকাশ

আমাদের সাথে থাকুন

© Iwate Bangladesh Exchange Association

আজকের দর্শক … মোট দর্শক …
Iwate-BD Chatbot
হ্যালো! আমি বাংলাদেশ কমিউনিটির ওয়েবসাইটের সহকারী। আমাকে এই সাইট সম্পর্কে যে কোন প্রশ্ন করতে পারবেন। আজ আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?